মসজিদ-মাদ্রাসা বানিয়ে দেবে বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি

নোয়াখালী, চাঁদপুর, নরসিংদী, মৌলভীবাজার ও জামালপুর জেলা থেকে নানা কৌশলে একটি চক্র সাত ব্যক্তি থেকে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানায় এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মো. ফারুকের একটি মামলার পর ওই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে নোয়াখালীর সিআইডি পুলিশ।

শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিআইডির নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. বশির আহমেদ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত রাজ্জাক মিয়ার ছেলে সুরুজ্জামান মিয়া ওরফে কামাল ওরফে ফয়সল (৫১), যশোরের বাগারপাড়া উপজেলার জামালপুর গ্রামের আজগর আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে দ্বীপু ওরফে শরিফুল ইসলাম (২৫) ও নরসিংদী সদর উপজেলার খাদসিয়া পাঁচদোনা গ্রামের সুন্দর আলীর মেয়ে রিনা বেগম ওরফে জামেলা বেগম (৪০)।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, সিআইডির উপ-পরিদর্শক আবু নোমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মামলাটি প্রায় ৪ মাস তদন্ত করে। তারা নানা কৌশলে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের আটক করার চেষ্টা করে। সবশেষ গত শুক্রবার রাতে ঢাকার মাতুয়াইল মহিলা মাদ্রাসার সন্নিকটে একটি ভাড়া বাসা থেকে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এসময় তিনি আরও বলেন, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র গঠন করে মানুষদের কৌশলে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়। কখনও সৌদি সরকারের অর্থায়নে মসজিদ ও মাদ্রাসা করে দেয়ার কথা বলে, কখনও নতুন বহুতল ভবন করিয়ে দেয়ার কথা বলে আবার কখনও বড় কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে কৌশলে বিভিন্ন জমিজমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। এসব প্রতারণার শিকার মানুষেদেরকে নগদ অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য প্রলুব্ধ করে।

এই মামলার তদন্তকালে নোয়াখালীসহ ৫ জেলার ৭ জন ব্যক্তি থেকে এইভাবে মোট ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি। তাদের গ্রেপ্তারের খবরে প্রতারণার শিকার আরও লোকজন ইতোমধ্যে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বলেও জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।