অপরাধ বন্ধে কাজ করবে ব্লকচেইন প্রযুক্তি: পলক

একজন অপরাধ করে পার পেয়ে গেলে আরও অনেকে অপরাধ করার সাহস পায় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ- ২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে সনদ জালিয়াতি, জমির দলিল জালিয়াতি, চাকরির ক্ষেত্রেও কোন অনিয়ম দুর্নীতি সম্ভব নয় এই প্রযুক্তিতে। অর্থ লেনদেনও সহজ হবে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে তিনদিনের এই আয়োজন। এবারের আসরে সারা দেশের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৫৬টি দল অংশ নেবে। ব্লকচেইন প্রকল্পের গুনগত মান বিবেচনায় চূড়ান্ত পর্বে ৪০টি দলকে মনোনীত করা হবে। এই প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত ১২টি দল আগামী জুলাই মাসে ইন্টারন্যাশনাল ব্লকচেইন অলিম্পিয়াডে অংশ নিবে।

ব্লকচেইন হল তথ্য সংরক্ষণ করার একটি নিরাপদ এবং উন্মুক্ত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে তথ্য একটির পর একটি চেইন আকারে বিভিন্ন ব্লকে সংরক্ষণ করা হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেকোনো কার্য-পরিচালনা রেকর্ড করা যেতে পারে। এটা এমন একটি বন্টনযোগ্য ডাটাবেজ যাতে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলির মধ্যে সব লেনদেনের তথ্য নথি আকারে রাখা যায়। প্রতিটি লেনদেন আবার সিস্টেমের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা যাচাই করা হয়। একবার লেজারে কোনো তথ্য প্রবেশ করলে স্থায়ীভাবে তা থেকে যায় এবং কখনো মুছে ফেলা যায় না। ব্লকচেইন প্রতিটি একক লেনদেনের যাচাইযোগ্য রেকর্ড নিয়ে গঠিত হয়। এই প্রযুক্তি নির্ভুলভাবে কাজ করে এবং বিভিন্ন কাজে এটির প্রয়োগ করা হয়।

এই প্রযুক্তি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক লেনদেনের জন্যই প্রযোজ্য নয়। বরং সব কাজেই ব্যবহার উপযোগী করতে কাজ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। যে মিছিলে সামনের সারিতে থাকতে চায় বাংলাদেশ।

আধুনিককালের উদ্ভাবন ব্লকচেইনের উদ্ভাবক ‘সাতোশী নাকামতো’ ছদ্মনামের এক বা একাধিক ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠী। ২০০৯ সালে বিটকয়েন সফটওয়্যার প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ব্লকচেইন প্রযুক্তির অনেক বিবর্তন ঘটে চলেছে। তথ্যকে ডিজিটালরূপে বণ্টন করা (অনুলিপি নয়) এই ব্লকচেইন প্রযুক্তি এক নতুন ধরনের ইন্টারনেট সৃষ্টি করেছে। কেবল ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের জন্য ব্লকচেইনের উদ্ভাবন করা হলেও এখন প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা কাজে লাগানো হচ্ছে।