অসংখ্য বাধা পেরিয়ে বিশ্বের সেরা মুখের অধিকারী তিনি

স্কুল পড়ুয়া এই কিশোরী ছবি তুলে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতেন। সেই ছবিই নজরে পড়ে এক পেশাদার ফটোগ্রাফারের। তার প্রথম ফটোশুটের প্রস্তাব পান ১৬ বছরের ওই কিশোরী। বলা হচ্ছে বিশ্বের সেরা মুখের অধিকারী ইয়েল শেলবিয়ার কথা।

তবে তখনও তিনি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মুখের অধিকারী হয়ে উঠবেন তা স্বপ্নেও ভাবেননি। কিন্তু ১৯ বছরের কিশোরী ইয়েলকে মাত্র তিন বছরের কেরিয়ারেই সম্মুখীন হতে হয়েছে অসংখ্য বিরোধিতা, হুমকি এবং কু-মন্তব্যের। সব বাধা অতিক্রম করে তিনি আজ প্রতিষ্ঠিত মডেল ও সবচেয়ে সুন্দর মুখের অধিকারী। লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে জনপ্রিয় অভিনেত্রী-মডেল কিম কার্দাশিয়ানের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।

ইয়েলের জন্ম ইসরায়েলের নাহারিয়ার এক গোঁড়া খ্রিস্টান পরিবারে। বাবা একটি কারখানার সুপারভাইজার আর মা লাইব্রেরিয়ান। গোঁড়া খ্রিস্টান পরিবারে জন্ম হওয়ায় ছোট থেকেই ধর্মীয় নানা বেড়াজালের মধ্যেই বড় হয়েছেন তিনি। তাকে প্রথমে একটি ধর্মীয় স্কুলে ভর্তি করা হয়। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ধর্ম নিয়ে নানা পাঠ শিখেছেন তিনি। চলাফেরা, ওঠাবসা, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ সব কিছুতেই ধর্মীয় রীতি মাথায় রাখতে হতো তার।

ইয়েল যখন মডেলিং শুরু সময় তার চারপাশ থেকেই প্রচুর বিরোধিতা শুরু হয়। এমনকি ইয়েলকে ওই ধর্মীয় স্কুল থেকে বহিষ্কার করার জন্য ইসরায়েলের খ্রিস্টান সমাজ থেকে সে দেশের শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়। তবে ইয়েল ও তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর তাকে পড়াশোনা করতে দিতে রাজি হন শিক্ষামন্ত্রী।

এদিকে মানুষের এই ধর্মীয় গোঁড়ামির জন্যই সবার মাঝে পরিচিত হন তিনি। সারাবিশ্বে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে সামনের সারির মডেল হয়ে ওঠেন ইয়েল।

২০১৮ সালে তিনি টিসি ক্যান্ডলার নামক সংস্থার বিচারে বিশ্বের তৃতীয় সুন্দর মুখের অধিকারী নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে এই তালিকায় তার স্থান ছিল দ্বিতীয় এবং ২০২০ সালে তিনিই বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মুখের শিরোপা পেয়েছেন। এদিকে ইসরায়েলের বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন ইয়েল।

সূত্র: জি নিউজ