দেশে করোনার এক বছরে যা হলো

বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। নভেল করোনা ভাইরাস চীনের উহানে প্রথমে শনাক্ত হয়। খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে এ ভাইরাস বিশ্বের প্রায় সব দেশে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যাও। যদিও অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা কম, তারপরও থামেনি করোনার ভয়াবহতা।

করোনাভাইরাস নিয়ে রোববার (৭ মার্চ) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ১১ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৪৬২ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৬০৬ জনের শরীরে। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা শনাক্ত দাঁড়াল ৫ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ জন।

সংস্থার অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরও ১০৩৭ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৩ হাজার ৩ জন।

এরইমধ্যে করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এদিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এক মাসে দেশের প্রায় ৩৭ লাখ মানুষকে করোনার টিকা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যা মোট জনসংখ্যার ২ দশমিক ২৩ শতাংশ। টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বৈশ্বিকভাবে অনেক ওপরে। কিছু ক্ষেত্রে টিকা উৎপাদনকারী প্রতিবেশী দেশ ভারতকেও পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক তথ্য-উপাত্তবিষয়ক দাতব্য প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল চেঞ্জ ডেটা ল্যাব নিয়মিতভাবে করোনার টিকা প্রয়োগবিষয়ক বৈশ্বিক তথ্য প্রকাশ করছে। গতকাল শনিবার (৬ মার্চ) তারা সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে এমন ২০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকার ১৭ নম্বরে বাংলাদেশ।

শনিবার (৬ মার্চ) দেশে আরও ৫৪০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান ১০ জন।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, রোববার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ৮১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ১৯৮ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ৭৮৫ জন।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ২ কোটি ৯৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯১ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৩৭ হাজার ১১৯ জনের।

আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন এক কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ৫৮০ জন এবং মারা গেছেন এক লাখ ৫৭ হাজার ৭৯১ জন।

আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় এক কোটি ৯ লাখ ৩৯ হাজার ৩২০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৬ জনের।

আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাশিয়া। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ লাখ ১২ হাজার ১৮১ জন। ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ৮৮ হাজার ৭২৬ জন।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাবে যুক্তরাজ্য রয়েছে পঞ্চম স্থানে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪২ লাখ ১৩ হাজার ৩৪৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ২৪ হাজার ৪১৯ জন।

এদিকে আক্রান্তের তালিকায় ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম এবং জার্মানি দশম স্থানে আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম।

উল্লেখ্য, ২০১৯-এর ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা আসে ১৮ মার্চ।

প্রথমদিকে করোনা শনাক্তের হার কম ছিল তবে মে মাসের মাঝামাঝি এসে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে। তবে তিন সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী লক্ষ্য করা গেছে।