বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৩ জনের ১৪ ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ৫

মেডিকেল, প্রকৌশলবিদ্যা পড়ে ডিগ্রি নিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডারে ঢুকছেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

চিকিৎসকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসক হিসেবে তৈরি করতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। চিকিৎসাবিদ্যা শেখার পর যখন একজন চিকিৎসক অন্য পেশায় চলে যান, তখন তা রাষ্ট্রের বিশাল ক্ষতি।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) খেলার মাঠে শনিবার (৬ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিকাবের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ শেষে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘আমি জেনে খুশি হলাম যে বুয়েটের মাঠে আমার সহকর্মী সবাই আপনাদের সাবেক ছাত্র। এটা একটা বড় ধারা। স্বাভাবিকভাবেই এই ধারার কারণ হলো বুয়েটে ভালো ছাত্ররা আসে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তারাই সফল হয়। সে কারণে আমাদের মন্ত্রণালয়ে এখন বহু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। এবার (সদ্য যোগ দেওয়া) ২৩ জনের মধ্যে ১৪ জনই ইঞ্জিনিয়ার, পাঁচজন ডাক্তার।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এটি পুরোপুরি পরিবর্তন। ডাক্তার হলে আমার দুঃখ লাগে। এত কষ্ট করে ডাক্তারি পাস হয়, যারা মানুষের সেবার জন্য, একেবারে সরাসরি হেল্প করে। তারা পরে অন্য জায়গায় গেলে এটি রাষ্ট্রের ক্ষতি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে পড়াশোনার জন্য সরকারিভাবে যথেষ্ট অনুদান, ভর্তুকি দেওয়া হয়। আমরা খুব ভাগ্যবান জাতি যে আমাদের উচ্চশিক্ষা নিতেও নিজের পকেটের পয়সা খুব একটা খরচ হয় না। কারণ সরকার, সাধারণ জনগণ, কৃষক, শ্রমিক, বিভিন্ন ধরনের পেশার লোক আমাদের পড়াশোনা করায়।’

ড. মোমেন তার নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘অর্ধডজন ডিগ্রি করেছি। একটি পয়সাও নিজের পকেট থেকে খরচ করিনি। আমি এই দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই। তাদের কারণে বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি পেয়েছি।’

অনুষ্ঠানে বুয়েট ও আইইউটির উপাচার্যসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই ম্যাচে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দল বিজয়ী হয়।