সাকরাইন উৎসবে রঙিন পুরান ঢাকা

সূর্যের দেখা নেই। হয়ে আছে কুয়াশাচ্ছন্ন। বইছে হিমেল বাতাস। পৌষের বিদায়ক্ষণে এমন আবহাওয়া যেন আলাদা বার্তা জানান দিয়ে গেল। এদিন ভোর হওয়ার পর থেকেই উড়ানো শুরু হয় রঙ বেরঙের ঘুড়ি। আর বাড়ির ছাদে ছাদে সাউন্ড বক্সে বাঁজতে থাকে হিন্দি, বাংলা গান। সেই তালে নেচে গেয়ে সাকরাইন উৎসবে মেতে উঠে পুরান ঢাকাবাসী।

পঞ্জিকামতে বাংলা পৌষ মাসের শেষের দিন উদযাপন করা হয় পৌষসংক্রান্তি। বর্তমানে ‘পৌষসংক্রান্তি’ শুধু ‘সংক্রান্তি’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে আর পুরান ঢাকার মানুষ একে বলে ‘সাকরাইন’। এ উপলক্ষে পুরান ঢাকার বাড়িতে বাড়িতে সাকরাইন উৎসব উপলক্ষে ঘুড়ি ওড়ানো ছাড়াও ছিল নানা আয়োজন।

পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, নারিন্দা, ওয়ারী, সূত্রাপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির ছাদে ছাদে প্যান্ডেল করা হয়েছে। সাউন্ড বক্সে গান বাজানো হচ্ছে। কিশোর কিশোরী হৈ-হুল্লোড়ও দেখা গেছে। এদিকে দুপুরের পর থেকেই আকাশে ঘুড়ি উড়ানোর সংখ্যা বাড়তে থাকে। শুরু হয় নিজের ঘুড়িকে সর্বোচ্চ উপরে উঠার প্রতিযোগিতা। সেই সাথে চলে ঘুড়ি কাটার লড়াই। সন্ধ্যার পর পর পুরান ঢাকার আকাশ আলোকসজ্জায় আলোকিত হয়ে উঠে। ফোটানো হয় আতশবাজি। এদিকে সাকরাইন উৎসবে পুরান ঢাকাবাসীর বাইরেও বিদেশি নাগরিকদের দেখা গেছে।

উত্তরা থেকে পুরান ঢাকায় সাকরাইন উৎসব দেখতে আসেন দুই বন্ধু মেহেদী ও সজীব। তারা দুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুরান ঢাকাবাসী উৎসব প্রিয়৷ প্রতিবছর সাকরাইনে পুরান ঢাকায় ঘুড়ি উড়ানো হয়। এ দৃশ্য দেখতে খুব ভালো লাগে। রাতের আতশবাজি ফোটানো দেখতেও ভালো লাগে। সাকরাইন উৎসবকে উপভোগ করতে আমরা এসেছি।

ওয়ারীর বাসিন্দা মফিজুর রহমান পাভেল বলেন, ‘সাকরাইন আমাদের পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। ছোট বেলা থেকেই এ দিনটা জাঁকজমকভাবে উদযাপন করে আসছি। এবারো আমাদের বাড়ির ছাদে এ আয়োজন করা হয়েছে। বন্ধুরা মিলে ঘুড়ি উড়ানো, আতশবাজি ফোটানোর মাধ্যমে অনেক আনন্দ করেছি।’

পুরান ঢাকার শিংটলার সুস্মিতা সেন বলেন, ‘মেঘলা আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে কোনো আনন্দ পায়নি। তবে আতশবাজি ফুটিয়ে ভালো লাগছে। সবাই মিলে অনেক আনন্দ করেছি।’

৪২নং ওয়ার্ড (ইউনিট) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদ জিতু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য ঘুড়ি উড়ানোর আয়োজন করেছিলাম। এখানে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’