মানিকগঞ্জে পুরাতন প্লাস্টিক কারখানায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

মানিকগঞ্জে পুরাতন প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত কারখানায় মোহাম্মদ জাহিদ (১৯) নামের এক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং শ্রমিক সমন্বয় প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে গাড়িতে তোলার সময় বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসে। উপস্থিতি টের পেয়ে মালিক পালিয়ে যান, এলাকাবাসীর হাতে আটকা পড়েন সহযোগী দুই শ্রমিক রোকন (৩০) ও জিহাদ (১৪)। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার উচুটিয়া নামক এলাকায় ইকবাল হোসেনের পুরাতন প্লাস্টিক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

আনুমানিক শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে এ ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছেন। নিহত জাহিদ মানিকগঞ্জ পৌরসভার খিলিন্ডা গ্রামের আজাদ হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, তিন থেকে চার বছর আগে মানিকগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মোল্লা বাজারের পিছনে প্রায় দেড় পাকি জায়গার ওপর যৌথ মালিকানায় কারখানাটি নির্মাণ হয়। শুরু থেকেই কারখানাটিতে শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ এবং বজ্র ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না করেই আশেপাশের এলাকা দূষণ করে। স্থানীয়রা মালিকপক্ষকে বিষয়টি একাধিকবার নজরে আনলেও সেদিকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি মালিক ইকবাল হোসেন।

প্রতিষ্ঠানে কাজ করা দুই শ্রমিক রোকন ও জিহাদের ভাষ্য অনুযায়ী এই দুই শ্রমিকের প্লাস্টিক কারখানায় কাজ ও ভাঙ্গানো মেশিন অপারেটর করার মত প্রাথমিক ধারণাও ছিলনা। রোকন, জিহাদ ও নিহত জাহিদ মালিক ইকবালের গ্রিলের দোকানে কাজ করতো। কারখানায় শ্রমিক স্বল্পতা থাকার কারণে মালিক ইকবাল হোসেন তার গ্ৰিল মেশিনের দোকান থেকে বিকেলে তার তিন শ্রমিককে আসতে বলেন।

তারা জানান, ঘটনার সময় নিহত জাহিদ মেশিন পরিষ্কার করছিল। মালিক ইকবাল হোসেন মেশিন সুইচ দিতে বললে মেশিন চালু হয়ে সঙ্গে সঙ্গেই জাহিদের সম্পূর্ণ দেহ মেশিনের ভিতরে চলে যায়। দেহ থেতলে গিয়ে মুহূর্তেই মৃত্যু হয় জাহিদের। অঘটন টের পেয়ে মালিক ইকবাল হোসেন দুই শ্রমিক রোকন ও জিহাদকে লাশ বস্তায় ভরে মেশিনে লেগে থাকা রক্ত, মাংস পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে বলে। এ ঘটনায় কোনো ঝামেলা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন মালিক ইকবাল হোসেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরাতন বজ্রের বড় বস্তায় মেশিনে কাটা ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ রশি দিয়ে বাধা। আলামত মুছে ফেলতে মেশিনে ও দেয়ালে লেগে থাকা রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে।

এ ঘটনায় সরেজমিন পরিদর্শন করে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দুই শ্রমিককে আটক করেছেন। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) লুৎফুর রহমান বলেন, ঘটনাটা কিছুক্ষণ আগের, সাব ইন্সপেক্টর শফিক ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এখনো পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।