‘ছাত্রদের অভুক্ত রেখে খাবার হজম হয় তো’

ছাত্রদের জীবনের থেকে কি পদ বড়’, ‘শিক্ষকের কাছে আত্মসম্মানের চেয়ে কি পদবী বড়’, ‘আস্থা ছাড়া পদের মূল্যকী’, ‘ছাত্রদের অভুক্ত রেখে খাবার হজম হয় তো’ এমন বিভিন্ন লেখা সম্বলিত ফেস্টুন হাতে নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগ চাইলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষক।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মৃত্যুঞ্জয়ী ম্যুরালের পাদদেশে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের সভাপতি এবং শাবির সাবেক শিক্ষার্থী ইনজামুল হক। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো: বাশার।

অবস্থানকালে শিক্ষক ইনজামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, একজন শিক্ষক যখন মৌন প্রতিবাদে দাড়ায় তখন বুঝতে হবে জাতির কতটা অধঃপতন হয়েছে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের উপর কিভাবে গুলি করার অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ। তাদের অসহিষ্ণু আন্দোলনে পুলিশের মামলা-হামলার প্রতিবাদ জানায়।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনশনচলাকালে মেডিকেল সাপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিপরীতে দাড়িয়ে বলে ওরা (শিক্ষার্থীরা) চাষা ভুষার সন্তান। আমি সাবেক শাবিয়ান ও একজন শিক্ষক হিসেবে খুবই লজ্জিত। আমি তাদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এ মৌন প্রতিবাদে দাড়িয়েছি। ভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ করে যাব।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি শাবিপ্রবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এরপর আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে এবং তাঁদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। পরে এই আন্দোলন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।